This is default featured slide 1 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 2 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 3 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 4 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 5 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com.

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

You Are Here: Home» » ঝড়া গোলাপ - AYUB ANSARY (অচিনপুরের আইয়ুব)

.

দরিদ্র পিতার একমাত্র আদরের কণ্যা তমা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
মেয়েটি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ে তখনই বিধাতা তার উপর বিমুখ হয়।
যার কারনে তমার   স্নেহ মাখা পৃথিবি থেকে সকল সুখ সাচ্ছন্দ কেড়ে নিয়ে একটি বিস্তৃত শূন্যতায় ভাসিয়ে দিয়ে তুলে নেয় তার সবচেয়ে আপন জন, সবচেয়ে মঙ্গলময়ী মা জননি কে।
তমা ছোট সময় থেকেই বিবেক সম্পন্ন মেয়ে। সে ভাগ্য কে মেনে নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে।
জীবন সুচনায় প্রিয়জন কে হারিয়ে সে ভালবাসতে শিখেছে।
সে তার মন দিয়ে সবাই কে আপন করে নিতে চায়।
তমার ভালবাসা তার আপন ভুবন কে যেন দোলা দিয়ে যায়। যথেস্ট ব্যাস্ততার মাঝে কাটে তার জীবনের প্রতিটা  মুহূর্ত।
এমন সময় তমার জীবনে উঠে আসে অশোক।।
ঝড়ের বেগে অশোক তমার দুয়ারে আবির্ভূত হয় এক ডালি ভালবাসার লাল গোলাপ নিয়ে।

অশোকের প্রিয় ফুল লাল গোলাপ। এই গোলাপের অস্তিত্ত যেন অশোকের রক্ত কণিকার সাথে মিশে আছে।
তেমনি মা হারানো তমাকে নিয়েও তার বাবার রয়েছে অনেক সপ্ন , অনেক আশা।
বাবার ইচ্ছা পুরণ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে তমা স্কুল জীবনের অধ্যয়নে মনোযোগ দেয়।
তখন এস.এস.সি'র রেজাল্ট বের হয়েছে। তমা তখন কলেজ লাইফে পদার্পণ করে।
প্রথম দিন কলেজে গিয়েই দেখা হয় অশোক নামের ছেলেটির সাথে।
ঠিক তখনই অশোককে মনে প্রাণে ভালবেসে ফেলে সে।
২য় দিন কলেজে যাবার পথে পেছন থেকে ডাক দেয় আশোক।
তমা পিছনে ফিরতেই দেখে অশোক লাল গোলাপ হাতে এক নজরে তাকিয়ে আছে।

আস্তে আস্তে তমার কাছে গিয়ে গোলাপ টা তার খোপার মাঝে গুজে দিয়ে বলে; "কলেজ জীবনের সূচনা লগ্নে সামান্য উপহার।"
তমা নিঃশব্দে কলেজে চলে যায়। খোপা থেকে গোলাপ নামিয়ে হাতে নেয়। সে গোলাপটির প্রত্যেকটি পাপড়িতে ভালবাসার ছোঁয়া অনুভব করে।
জীবনের প্রথম প্রেম এড়িয়ে যাওয়া ভীষণ কস্ট। তমা পারল না অশোককে ফিরিয়ে দিতে। অজানা ছেলেটিকে কঠিন বাধনে জড়িয়ে নিল সে।
তমা জানত পৃথিবিতে প্রেম কারো জন্য থেমে থাকে না। কিন্তু অশোকের জন্য থেমে যায় তমার জীবন।
ওদের সম্পর্কটা গোপন থাকলেও কিছু দিনের মধ্যে জানা যায় উভয় পরিবার।

অশোক ছিল ধণী পিতার একমাত্র সন্তান। তাই অশোকের বাবা কিছুতেই তাদের সম্পর্কটা মেনে নিতে পারছিল না।
তখন থেকে শুরু হয় তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ।
তখন অশোকের পড়াশনা প্রায় শেষের পথে। পড়াশোনা শেষ করে অশোক বিদেশ যায়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় তমা্র হাতে একটা লাল গোলাপ দেয় আর বলে; "তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করিও।"

দিন যায়, রাত যায়। কাটতে থাকে তমার একাকি জীবন। হটাৎ একদিন তমা ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তার বাবা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।
ডাক্তার রিপোর্টে বলে, তমার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে।
বিষয়টি তমার কাছে গোপন রাখা হলেও তার বুঝতে বাঁকি রইল না।
তমা বিছানায় শুয়ে শুয়ে অশোকের কাছে চিঠি লিখে।
চিঠি পাওয়া মাত্রই অশোক পাগলের মত ছুটে আসে। শীতের এক সন্ধায় যখন তমা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার পাশে উপস্থিত হয়।
তখন তমা অশোকের হাত ধরে বলতে লাগল; "আমি আর পারলাম না তোমার পবিত্র ভালবাসার মূল্য দিতে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আশীর্বাদ না করলেও অভিশাপ দিয়ো না।
আমি এ জীবনে যেমন তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি পরজীবনেও সেভাবেই অপেক্ষা করব।"

কথাগুলো অশোকের আর সহ্য হচ্ছিল না। সে বেদনা জড়িত কন্ঠে বলতে লাগল; "আমার ভালবাসায় কি কোন ফাঁক ছিল?"
এরই ফাঁকে তমা অশোকের হাতে হাত রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
অশোক নিঃসঙ্গতা মেনে নিতে না পেরে নিজেও অচিনপুরে পাড়ি জমায়।
এভাবেই ঝরে পড়ে ২টি ফুটন্ত গোলাপ।

Tags:

0 মন্তব্য(গুলি)

    Leave a Reply